প্রাথমিক সমাপনীতে এবছরই উঠে যাচ্ছে এমসিকিউ: মন্ত্রী

প্রশ্ন ফাঁস এড়াতে চলতি বছর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার এমসিকিউ প্রশ্ন বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা থেকেই এমসিকিউ প্রশ্ন থাকছে না। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মূলত সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অব্যাহতভাবে এমসিকিউ প্রশ্ন ফাঁসের প্রেক্ষাপটেই প্রাথমিকে আনা হলো এ পরিবর্তন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরসহ প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ

এদিকে, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার।প্রাথমিক সমাপনীর ফলাফলের ভিত্তিতে এবার ৮২ হাজার ৫০০ জন বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুলে এবং ৪৯ হাজার ৫০০ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা পাওয়া যাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd)।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের কথা জানান এবং এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পাবে।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মেধার স্বীকৃতি দিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হয়।

আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আলাদা পরীক্ষা নিয়ে বৃত্তি দেওয়া হলেও ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে উপজেলা ও ওয়ার্ডভিত্তিক বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

এবার বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বৃত্তির অর্থের পরিমাণও বাড়িয়েছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

গত বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। প্রাথমিকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ২৩ জন জিপিএ-৫ পায়।